Sunday, November 29, 2009

কলঘরে যাওয়ার আগে / সিকদার আমিনুল হক

...

কলঘরে যাওয়ার আগে তুমি নিয়েছিলে তিরিশ মিনিট। একটা
একটা কবিতা লেখার সমবয়স্ক সময় তিরিশ মিনিটটাকে তুমি
ইলাস্টিকের মতো টানছো। ওদিকে আমি দেখছি কত সাবান
ফেনা হয়ে গলে গলে নরম আর বর্তুল ঘর্মাক্ত শরীর থেকে।

পরিচিতার গোসলের শব্দ ততো ভালো লাগে না। নিজেকে
মনে হয় বাইরে থাকা বকলেশ-বদ্ধ কুকুর; একজনের ইচ্ছার
কাছে বন্দী। কিন্তু যদি পরস্ত্রী হয়, ফর্সা গোলগাল স্বপ্নে দেখা
বউটা হয় পাশের বাড়ির। কিংবা ক্লাস নাইনে পড়া বেণী
ঝোলানো চড়ুইগন্ধ পনেরো বছরের পলা হতো...
মনে পড়ে জামা কাপড় নেই। ইয়ার্ডলি সাবান আর ঝুপঝুপ
করা মগ থেকে পানি পড়ার বিরক্তিকর শব্দ হতো, তাহলে ?...

অর্থাৎ বদ্ধ কলঘরও তখন মজাদার এক দীর্ঘ শিহরণ।
যেন নর্দমা দিয়ে ভেসে যাচ্ছে তরল লাবণ্য আর
শরীরের ভেজা উত্তাপ। যেন সমগ্র গন্ধগুলো খণ্ড খণ্ড
হয়ে বহুদিন পরে আজ স্বাধীন। অথচ এদিকে দ্যাখো,
তিরিশ মিনিট গেল, পঞ্চাশ মিনিটও যায় যায়; জানি না
কলঘরের ভেতর কি এমন ছায়াছবির মজা আছে !

ভাবতে বসলাম। পুরনো বউ আর কি জঞ্জাল
সাফ করবে ? এতকাল পরে বয়সটাই মানুষকে
ময়লা করে। চর্বি ময়লা হয়, দাঁত ময়লা হয়,
আঙ্গুলের মাখন নরমেও কালশিটে দাগ পড়ে। আর
বয়স যত বাড়ে মেয়েরা ততই যেন বেশি
করে কলঘরের নির্বাসনে কাটায়। কি শীত কি গ্রীষ্ম
আকাশটা ফকফকে থাকলেই হলো।

নিজের বৈধ স্ত্রীকেই দেখি সময় নিয়ে এমন হেলাফেলা
করতে। অন্যেরা, অপরিচিতরা কেমন যেন সব চালাক।
অর্থাৎ যারা আকর্ষণীয় তার কিরকম যেন দ্রুতগামী।
ঢোকে আর বেরিয়ে আসে। ভেজা চুলগুলো পর্যন্ত ঝাঁকায়
আর শুকায় এক লহমায়। কেবল, প্রতিবেশীর চোখে
বারান্দায় ঝুলতে দেখি তাদের ভেজা পোশাকের নানা
কাটছাটের বাহার।
...

No comments:

Post a Comment