...
সাহেব কহেন, "চমৎকার ! সে চমৎকার !"
মোসাহেব বলে, "চমৎকার সে হতেই হবে যে !
হুজুরের মতে অমত কার ?"
সাহেব কহেন, "কী চমৎকার,
বলতেই দাও, আহা হা।"
মোসাহেব বলে, "হুজুরের কথা
শুনেই বুঝেছি, বাহাহা বাহাহা বাহাহা !"
সাহেব কহেন, "কথাটা কি জান ? সেদিন-- ?
মোসাহেব বলে, "জানি না আবার ?
ঐ যে, কি বলে, যেদিন--"
সাহেব কহেন, "যেদিন বিকেলে বৃষ্টিটা ছিল স্বল্প।"
মোসাহেব বলে, "আহা হা, শুনেছ ?
কিবা অপরূপ গল্প !"
Showing posts with label কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯ - ১৯৭৬). Show all posts
Showing posts with label কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯ - ১৯৭৬). Show all posts
Tuesday, May 18, 2010
লিচু-চোর / কাজী নজরুল ইসলাম
...
বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস্ করলে তাড়া,
বলি থাম্ একটু দাঁড়া।
পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গ্যে যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি,
ও বাবা, মড়াৎ করে
পড়েছি সড়াৎ জোরে !
পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।
বাবুদের তাল-পুকুরে
হাবুদের ডাল-কুকুরে
সে কি বাস্ করলে তাড়া,
বলি থাম্ একটু দাঁড়া।
পুকুরের ঐ কাছে না
লিচুর এক গাছ আছে না
হোথা না আস্তে গিয়ে
য়্যাব্বড় কাস্তে নিয়ে
গাছে গ্যে যেই চড়েছি
ছোট এক ডাল ধরেছি,
ও বাবা, মড়াৎ করে
পড়েছি সড়াৎ জোরে !
পড়বি পড় মালীর ঘাড়েই,
সে ছিল গাছের আড়েই।
Thursday, November 19, 2009
খুকি ও কাঠবেরালি / কাজী নজরুল ইসলাম
...
কাঠবেরালি ! কাঠবেরালি ! পেয়ারা তুমি খাও ?
গুড়-মুড়ি খাও ? দুধ-ভাত খাও ? বাতাবি-নেবু ? লাউ ?
বেরাল-বাচ্চা ? কুকুর-ছানা ? তাও-
ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক,
খাও একা পাও যেথায় যেটুক!
বাতাবি-নেবু সকলগুলো
একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো!
তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস্ পাটুস্ চাও ?
ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও!
কাঠবেরালি ! কাঠবেরালি ! পেয়ারা তুমি খাও ?
গুড়-মুড়ি খাও ? দুধ-ভাত খাও ? বাতাবি-নেবু ? লাউ ?
বেরাল-বাচ্চা ? কুকুর-ছানা ? তাও-
ডাইনি তুমি হোঁৎকা পেটুক,
খাও একা পাও যেথায় যেটুক!
বাতাবি-নেবু সকলগুলো
একলা খেলে ডুবিয়ে নুলো!
তবে যে ভারি ল্যাজ উঁচিয়ে পুটুস্ পাটুস্ চাও ?
ছোঁচা তুমি! তোমার সঙ্গে আড়ি আমার! যাও!
Friday, November 13, 2009
বিদ্রোহী / কাজী নজরুল ইসলাম
...
. বল বীর---
. বল উন্নত মম শির !
শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর !
. বল বীর---
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
. চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
. ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া,
. খোদার আসন "আরশ" ছেদিয়া
. উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর !
মম ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর !
. বল বীর---
. আমি চির-উন্নত শির !
. বল বীর---
. বল উন্নত মম শির !
শির নেহারি আমারি, নত-শির ওই শিখর হিমাদ্রীর !
. বল বীর---
বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি'
. চন্দ্র সূর্য্য গ্রহ তারা ছাড়ি'
. ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া,
. খোদার আসন "আরশ" ছেদিয়া
. উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ব-বিধাত্রীর !
মম ললাটে রুদ্র-ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর !
. বল বীর---
. আমি চির-উন্নত শির !
ধূমকেতু / কাজী নজরুল ইসলাম
...
আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু
. এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত--- সাত শ' নরক-জ্বালা জ্বলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী ক'রেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে!
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ,
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি-পাপের অনুতাপ-তাপ-হাহাকার---
. আর মর্ত্তে সাহারা-গোবী ছাপ,
. আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ!
আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু
. এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত--- সাত শ' নরক-জ্বালা জ্বলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী ক'রেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে!
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ,
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি-পাপের অনুতাপ-তাপ-হাহাকার---
. আর মর্ত্তে সাহারা-গোবী ছাপ,
. আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ!
খেয়া-পারের তরণী / কাজী নজরুল ইসলাম
...
যাত্রীরা রাত্তিরে হ'তে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তুর্য্যে এ গর্জ্জেছে কে আবার ?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে
ঝঞ্ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!
নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে!
তমসাবৃতা ঘোরা "কিয়ামত" রাত্রি,
খেয়া-পারে আশা নাই ডুবিল রে যাত্রী
দমকি দমকি দেয়া হাঁকে কাঁপে দামিনী,
শিঙ্গার হুঙ্কারে থর থর যামিনী!
যাত্রীরা রাত্তিরে হ'তে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তুর্য্যে এ গর্জ্জেছে কে আবার ?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে
ঝঞ্ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!
নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে!
তমসাবৃতা ঘোরা "কিয়ামত" রাত্রি,
খেয়া-পারে আশা নাই ডুবিল রে যাত্রী
দমকি দমকি দেয়া হাঁকে কাঁপে দামিনী,
শিঙ্গার হুঙ্কারে থর থর যামিনী!
প্রলয়োল্লাস / কাজী নজরুল ইসলাম
...
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখীর ঝড় !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল,
সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল !
. মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে
. মহাকালের চণ্ড-রূপে---
বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ঙ্কর !
. ওরে ঐ হাসছে ভয়ঙ্কর !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল্-বোশেখীর ঝড় !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
আসছে এবার অনাগত প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল,
সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধমক হেনে ভাঙল আগল !
. মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে
. মহাকালের চণ্ড-রূপে---
বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ঙ্কর !
. ওরে ঐ হাসছে ভয়ঙ্কর !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !
. তোরা সব জয়ধ্বনি কর্ !!
কান্ডারী হুশিয়ার! / কাজী নজরুল ইসলাম
...
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার!!
তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে, নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার!!
দুর্গম গিরি কান্তার-মরু দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে যাত্রীরা হুশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভূলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যত।
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার!!
তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে, নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার!!
Wednesday, November 11, 2009
হে রুদ্র আদেশ দাও / কাজী নজরুল ইসলাম
...
অগণিত মানবের শ্রান্তি-হীন
অসহায় অশান্ত- রোদন,ভেসে আসে মোর কানে
নিশীথের বাণীহীন নিস্তব্ধ অন্ধকারে
ধরণীর দশদিক হতে,
চমকিয়া উঠে মোর ধ্যানের কৈলাসে
মহামণি যোগিন্দ্র শীব।
কোটি শাখা বাহু মেলি আকাশের পানে
যেমন আশ্রয় মাগে বন তরুলতা
কালবৈশাখীর ঝড়ে,দূর্যোগে নিশীথে
পৃথিবীর মাতৃক্রোড়
সহস্র শিকড় দিয়া আঁকড়িয়া কাঁদে
দেশে দেশে কাঁদিছে মোর আত্মার আত্মীয়
আমারই স্রষ্টার সৃষ্ট জীব
সে কোন জন্মের মোর
ভূলে যাওয়া পুত্র কন্যা
পিতা মাতা ভাই বোন
তেমনি করুণ রবে আর্ত ঝংকার তোলে
তাহাদের বিপুল রোদনধ্বণি
হৃদয়ের নীরব তন্ত্রিতে
গভীর প্রশান্তি মোর উদ্বেলিয়া উঠে
সমাধি শয্যায় শুনি,জীবন্ত সমাধি ভীত
মানবের অসীম আকুল হাহাকার
সরোষে ভাঙ্গিতে চাই সমাধির কারা
তপস্যার বল্মীক স্তুপ
পরম একাকী যেই জন
রাখিয়াছে মোরে একাকী করিয়া
ছিন্ন করি সর্ব মানবের সঙ্গ হতে
উচ্চস্বরে ডাকি সেই মহাকালে
হে রুদ্র আদেশ দাও
বাহিরে আসার
দ্বারে মোর কাঁদে সর্বহারা
নিপীড়িত জনগণ আত্মীয় স্বজন
পাতাল তলের দৈত্য অসুর দানব
বাহিরিয়া আসিয়াছে ধরণীর সূর্য়ালোকে
মানুষের বেশ ধরি
হরিয়াছে মানুষের অধিকার
লুটিয়াছে সুখ শান্তি
টুটিয়াছে স্নেহ নীড়
হে রুদ্র আদেশ দাও
শান্তি স্বর্গ হতে টেনে দাও ফেলে
ধরণীর ধূলিতলে
আমারে মরিতে দাও
সর্বঅবমানিতের সাথে।
হেরিনু মৌন শীব মৃদু মৃদু হাসে
শক্তি সাথে অটল কৈলাসে
ধূর্জটির ললাটের বহ্নিশিখা মাঝে
জাগিছে যোগেশ্বরী
মহাশক্তি রক্তচামুন্ডা রুপ ধরি
যেন রক্ত মহাসিন্ধু
সেই প্রলয়ের রক্ত সিন্ধু ম্লান করি
উদিতেছে নব প্রভাতের সূর্য নারায়ণ
সংগ্রাম শশ্মানে আসে যেন
দলে দলে বিভূতি তিলক পড়ি
আঁধারের কারামুক্ত দেব ও সেনাদল
প্রণতি জানায় সবে
নব প্রভাতের নর নারায়ণে।
...
অগণিত মানবের শ্রান্তি-হীন
অসহায় অশান্ত- রোদন,ভেসে আসে মোর কানে
নিশীথের বাণীহীন নিস্তব্ধ অন্ধকারে
ধরণীর দশদিক হতে,
চমকিয়া উঠে মোর ধ্যানের কৈলাসে
মহামণি যোগিন্দ্র শীব।
কোটি শাখা বাহু মেলি আকাশের পানে
যেমন আশ্রয় মাগে বন তরুলতা
কালবৈশাখীর ঝড়ে,দূর্যোগে নিশীথে
পৃথিবীর মাতৃক্রোড়
সহস্র শিকড় দিয়া আঁকড়িয়া কাঁদে
দেশে দেশে কাঁদিছে মোর আত্মার আত্মীয়
আমারই স্রষ্টার সৃষ্ট জীব
সে কোন জন্মের মোর
ভূলে যাওয়া পুত্র কন্যা
পিতা মাতা ভাই বোন
তেমনি করুণ রবে আর্ত ঝংকার তোলে
তাহাদের বিপুল রোদনধ্বণি
হৃদয়ের নীরব তন্ত্রিতে
গভীর প্রশান্তি মোর উদ্বেলিয়া উঠে
সমাধি শয্যায় শুনি,জীবন্ত সমাধি ভীত
মানবের অসীম আকুল হাহাকার
সরোষে ভাঙ্গিতে চাই সমাধির কারা
তপস্যার বল্মীক স্তুপ
পরম একাকী যেই জন
রাখিয়াছে মোরে একাকী করিয়া
ছিন্ন করি সর্ব মানবের সঙ্গ হতে
উচ্চস্বরে ডাকি সেই মহাকালে
হে রুদ্র আদেশ দাও
বাহিরে আসার
দ্বারে মোর কাঁদে সর্বহারা
নিপীড়িত জনগণ আত্মীয় স্বজন
পাতাল তলের দৈত্য অসুর দানব
বাহিরিয়া আসিয়াছে ধরণীর সূর্য়ালোকে
মানুষের বেশ ধরি
হরিয়াছে মানুষের অধিকার
লুটিয়াছে সুখ শান্তি
টুটিয়াছে স্নেহ নীড়
হে রুদ্র আদেশ দাও
শান্তি স্বর্গ হতে টেনে দাও ফেলে
ধরণীর ধূলিতলে
আমারে মরিতে দাও
সর্বঅবমানিতের সাথে।
হেরিনু মৌন শীব মৃদু মৃদু হাসে
শক্তি সাথে অটল কৈলাসে
ধূর্জটির ললাটের বহ্নিশিখা মাঝে
জাগিছে যোগেশ্বরী
মহাশক্তি রক্তচামুন্ডা রুপ ধরি
যেন রক্ত মহাসিন্ধু
সেই প্রলয়ের রক্ত সিন্ধু ম্লান করি
উদিতেছে নব প্রভাতের সূর্য নারায়ণ
সংগ্রাম শশ্মানে আসে যেন
দলে দলে বিভূতি তিলক পড়ি
আঁধারের কারামুক্ত দেব ও সেনাদল
প্রণতি জানায় সবে
নব প্রভাতের নর নারায়ণে।
...
Tuesday, November 10, 2009
মানুষ / কাজী নজরুল ইসলাম
...
গাহি সাম্যের গান--
মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান ,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি ।
'পুজারী, দুয়ার খোল,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পুজার সময় হলো !'
স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয় !
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, 'দ্বার খোল বাবা, খাইনা তো সাত দিন !'
সহসা বন্ধ হল মন্দির , ভুখারী ফিরিয়া চলে
তিমির রাত্রি পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে !
ভুখারী ফুকারি' কয়,
'ঐ মন্দির পুজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয় !'
মসজিদে কাল শিরনী আছিল, অঢেল গোস্ত রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি !
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে-আজারির চিন্
বলে, 'বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন !'
তেরিয়াঁ হইয়া হাঁকিল মোল্লা--"ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,
ভুখা আছ মর গে-ভাগাড়ে গিয়ে ! নামাজ পড়িস বেটা ?"
ভুখারী কহিল, 'না বাবা !' মোল্লা হাঁকিল- 'তা হলে শালা
সোজা পথ দেখ !' গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা !
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
চলিতে চলিতে বলে--
"আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তেমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা'বলে বন্ধ করোনি প্রভু !
তব মজসিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবী !"
গাহি সাম্যের গান--
মানুষের চেয়ে কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান ,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি ।
'পুজারী, দুয়ার খোল,
ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পুজার সময় হলো !'
স্বপ্ন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়
দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয় !
জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কন্ঠ ক্ষীণ
ডাকিল পান্থ, 'দ্বার খোল বাবা, খাইনা তো সাত দিন !'
সহসা বন্ধ হল মন্দির , ভুখারী ফিরিয়া চলে
তিমির রাত্রি পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে !
ভুখারী ফুকারি' কয়,
'ঐ মন্দির পুজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয় !'
মসজিদে কাল শিরনী আছিল, অঢেল গোস্ত রুটি
বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটিকুটি !
এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে-আজারির চিন্
বলে, 'বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন !'
তেরিয়াঁ হইয়া হাঁকিল মোল্লা--"ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,
ভুখা আছ মর গে-ভাগাড়ে গিয়ে ! নামাজ পড়িস বেটা ?"
ভুখারী কহিল, 'না বাবা !' মোল্লা হাঁকিল- 'তা হলে শালা
সোজা পথ দেখ !' গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা !
ভুখারী ফিরিয়া চলে,
চলিতে চলিতে বলে--
"আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তেমায় কভু,
আমার ক্ষুধার অন্ন তা'বলে বন্ধ করোনি প্রভু !
তব মজসিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবী,
মোল্লা-পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবী !"
Subscribe to:
Posts (Atom)
