Showing posts with label সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১৯১৯ - ২০০২). Show all posts
Showing posts with label সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১৯১৯ - ২০০২). Show all posts

Saturday, May 22, 2010

যেতে যেতে / সুভাষ মুখোপাধ্যায়

...
তারপর যে-তে যে-তে যে-তে
এক নদীর সঙ্গে দেখা।

পায়ে তার ঘুঙুর বাঁধা
পরনে
উড়ু-উড়ু ঢেউয়ের
নীল ঘাগরা।

সে নদীর দুদিকে দুটো মুখ।
এক মুখে সে আমাকে আসছি বলে
দাঁড় করিয়ে রেখে
অন্য মুখে
ছুটতে ছুটতে চলে গেল।

আর
যেতে যেতে বুঝিয়ে দিল
আমি অমনি করে আসি
অমনি করে যাই।
বুঝিয়ে দিল
আমি থেকেও নেই,
না থেকেও আছি।

Friday, May 21, 2010

ফুল ফুটুক না ফুটুক / সুভাষ মুখোপাধ্যায়

...
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।

শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।
আলোর চোখে কালো ঠুলি পরিয়ে
তারপর খুলে-
মৃত্যুর কোলে মানুষকে শুইয়ে দিয়ে
তারপর তুলে-
যে দিনগুলো রাস্তা দিয়ে চলে গেছে
যেন না ফেরে।
গায়ে হলুদ দেওয়া বিকেলে
একটা দুটো পয়সা পেলে
যে হরবোলা ছেলেটা
কোকিল ডাকতে ডাকতে যেত
-তাকে ডেকে নিয়ে গেছে দিনগুলো।

Wednesday, November 11, 2009

লোকটা জানলই না / সুভাষ মুখোপাধ্যায়

...

বাঁ দিকের বুক পকেটটা সামলাতে সামলাতে
হায়! হায় ! লোকটার ইহকাল পরকাল গেল !
অথচ আর একটু নীচে হাত দিলেই
সে পেতো আলাদ্বীনের আশ্চর্য প্রদীপ,
তার হৃদয় !
লোকটা জানলোই না !

তার কড়ি গাছে কড়ি হল ।
লক্ষ্মী এল রণ-পায়ে
দেয়াল দিল পহাড়া
ছোটলোক হাওয়া যেন ঢুকতে না পারে !

তারপর একদিন
গোগ্রাসে গিলতে গিলতে
দু'আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে-
কখন খসে পড়েছে তার জীবন-
লোকটা জানলই না !
...

Tuesday, November 10, 2009

পায়ে পায়ে / সুভাষ মুখোপাধ্যায়

...

সারাক্ষণ
সে আমার পায়ে পায়ে
সারাক্ষণ
পায়ে পায়ে ঘুরঘুর করে।

তাকে বলি; তোমাকে নিয়ে থাকার
সময় নেই-
হে বিষাদ,তুমি যাও
এখন সময় নেই
তুমি যাও।
গাছের গুঁড়িতে বুক-পিট এক করে
যৌবনে পা দিয়ে রয়েছে
একটি উলঙ্গ মৃত্যু-
আমি এখুনি দেখে আসছি: