...
তোমার আকাশ থেকে আমার জন্য
কেবলই লাবণ্য ঝরে না
মেঘ জমে শিশিরের ঘাম হয়ে
শিলা ও পাথর জমে মেঘে
বিষ্টির নাম করে
হাওয়ার চাদর উড়িয়ে তোমার অস্তিত্ব নামে
নেমে আসে
আমার পাতা ও কাণ্ডের ওপর
পাখির পালক হয়ে স্নিগ্ধতা গড়িয়ে পড়ে
কোনো কিছু স্নেহ নয় প্রিয়তা নয়
পাথর গড়িয়ে পড়ে গলে যায়
তোমার আকাশ থেকে আমার ওপরে
কোনোই লাবণ্য ঝরে না
তবু
টিকে থাকি বেঁচে থাকি
বিষ্টির লবণ একদিন লাবণ্য জমাবে
আমাদের জীবন শিকড়ে
...
Showing posts with label সমুদ্র গুপ্ত (১৯৪৬ - ২০০৮). Show all posts
Showing posts with label সমুদ্র গুপ্ত (১৯৪৬ - ২০০৮). Show all posts
Sunday, November 29, 2009
মাছি / সমুদ্র গুপ্ত
...
এইভাবে বিবাদ ও বিষাদে অন্তহীন ডুবে যাওয়া
কতদিন আর কতকাল
দ্বিধাহীন দ্বিত্বহীন একক সঞ্চারে
চেয়ারের হাতলের সাথে স্ট্যাটাসের শিকলে বাঁধা হাত
যেন চারপাশে আর কিছু নেই কেউ নেই
আমরা কি ভুলে যাবো ডুমরিয়া আত্রাই পেয়ারা বাগান
হাকালুকি শীতলক্ষার রক্তরাঙা জল
নড়াইল আর চিত্রার অবস্থান একটুয়ো না পাল্টানোর স্মৃতি কি
স্মৃতি থেকে বিস্মৃতির অতলে তলাবে
এইভাবে বিবাদ ও বিষাদে অন্তহীন ডুবে যাওয়া
কতদিন আর কতকাল
দ্বিধাহীন দ্বিত্বহীন একক সঞ্চারে
চেয়ারের হাতলের সাথে স্ট্যাটাসের শিকলে বাঁধা হাত
যেন চারপাশে আর কিছু নেই কেউ নেই
আমরা কি ভুলে যাবো ডুমরিয়া আত্রাই পেয়ারা বাগান
হাকালুকি শীতলক্ষার রক্তরাঙা জল
নড়াইল আর চিত্রার অবস্থান একটুয়ো না পাল্টানোর স্মৃতি কি
স্মৃতি থেকে বিস্মৃতির অতলে তলাবে
সম্মুখ ও পশ্চাত আজ একাকার / সমু্দ্র গুপ্ত
...
কে যায় আর কে কে আসে
বোঝা যায় না
বিশাল চওড়া পথে
কতো মানুষ কতো যানবাহন
এইসবের
কারা যায় আর কারা আসে
কে জানে
যাকে দেখা যাচ্ছে, চলে যাচ্ছে
অথচ সে যাচ্ছে না
তার গন্তব্য থেকে বোঝা যায় সে যাচ্ছে না
আসছে সে
কে যায় আর কে কে আসে
বোঝা যায় না
বিশাল চওড়া পথে
কতো মানুষ কতো যানবাহন
এইসবের
কারা যায় আর কারা আসে
কে জানে
যাকে দেখা যাচ্ছে, চলে যাচ্ছে
অথচ সে যাচ্ছে না
তার গন্তব্য থেকে বোঝা যায় সে যাচ্ছে না
আসছে সে
কুকুর / সমুদ্র গুপ্ত
...
রাস্তার মধ্যিখানে শুয়ে আছে নির্বিকার একটি কুকুর
গাড়ি ঘোড়া ছুটে যাচ্ছে এদিক ওদিক
পাশ কেটে কুকুরের মাথার, ছায়ার
প্রাণহীন কুকুরের হৃদপিণ্ড কুঁকড়ে গেছে
খামচে ধরে রাজপথ কোঠাবাড়ি নাগরিক বিশাল শহর
রাস্তার মধ্যিখানে শুয়ে আছে নির্বিকার একটি কুকুর
গাড়ি ঘোড়া ছুটে যাচ্ছে এদিক ওদিক
পাশ কেটে কুকুরের মাথার, ছায়ার
প্রাণহীন কুকুরের হৃদপিণ্ড কুঁকড়ে গেছে
খামচে ধরে রাজপথ কোঠাবাড়ি নাগরিক বিশাল শহর
সভা শেষ হলে / সমুদ্র গুপ্ত
...
‘তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে সভা শেষ হলে
বক্তৃতার মধ্যেকার মিথ্যাগুলো
বাদুড়ের মতো উড়ে যায় বিভ্রান্তির অন্ধকারের দিকে
সেখানে রয়েছে স্বার্থের ডাঁসা পেয়ারা
খাবে কামড়াবে ছড়াবে ছিটকাবে আর
বাকিটা নষ্ট করবে এমনভাবে যেন
অন্য কারও আহারে রুচি না হয়
‘তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে সভা শেষ হলে
বক্তৃতার মধ্যেকার মিথ্যাগুলো
বাদুড়ের মতো উড়ে যায় বিভ্রান্তির অন্ধকারের দিকে
সেখানে রয়েছে স্বার্থের ডাঁসা পেয়ারা
খাবে কামড়াবে ছড়াবে ছিটকাবে আর
বাকিটা নষ্ট করবে এমনভাবে যেন
অন্য কারও আহারে রুচি না হয়
বন্ধুদের প্রতি / সমুদ্র গুপ্ত
...
তোমরা কীভাবে যে কি কি বলো বুঝতে পারি না
নদীর চলে যাবার কথা বোঝা যায়
নদীর থেমে থাকার কথা বোঝা যায়
ঘাস খেতে খেতে
বাছুরের মাথা তুলে আকাশ দেখার কথা বোঝা যায়
মেঘ ও বৃষ্টির ভাষা বোঝা যায়
পথ ও বিপথের কথা বোঝা যায়
সন্ধ্যা কিংবা সকাল
বৃষ্টি ও রোদের ভিতরে গাছের ভাষা বোঝা যায়
চাল কিভাবে গুমরাতে গুমরাতে ভাত হয়
তা-ও বোঝা যায়
কিন্তু
তোমরা কি কি যে কীভাবে বলো বোঝা যায় না
...
তোমরা কীভাবে যে কি কি বলো বুঝতে পারি না
নদীর চলে যাবার কথা বোঝা যায়
নদীর থেমে থাকার কথা বোঝা যায়
ঘাস খেতে খেতে
বাছুরের মাথা তুলে আকাশ দেখার কথা বোঝা যায়
মেঘ ও বৃষ্টির ভাষা বোঝা যায়
পথ ও বিপথের কথা বোঝা যায়
সন্ধ্যা কিংবা সকাল
বৃষ্টি ও রোদের ভিতরে গাছের ভাষা বোঝা যায়
চাল কিভাবে গুমরাতে গুমরাতে ভাত হয়
তা-ও বোঝা যায়
কিন্তু
তোমরা কি কি যে কীভাবে বলো বোঝা যায় না
...
মানুষের নিয়ম / সমুদ্র গুপ্ত
...
স্বাধীনতা জিনিসটা অন্যরকম
একেক পরিপ্রেক্ষিতে একেক বিষয়কেন্দ্রে
একেক পরিস্থিতিতে একেক চাহিদাক্ষেত্রে
স্বাধীনতার একেক চেহারা
আজ যা তোমার স্বাধীনতা
একই সাথে অন্যের ক্ষেত্রে বিপরীত
আবার
সহসাই এটির চিত্র ও ভঙ্গি পাল্টে যায়
স্বাধীনতা জিনিসটা অন্যরকম
একেক পরিপ্রেক্ষিতে একেক বিষয়কেন্দ্রে
একেক পরিস্থিতিতে একেক চাহিদাক্ষেত্রে
স্বাধীনতার একেক চেহারা
আজ যা তোমার স্বাধীনতা
একই সাথে অন্যের ক্ষেত্রে বিপরীত
আবার
সহসাই এটির চিত্র ও ভঙ্গি পাল্টে যায়
পাথর ও বরফ / সমুদ্র গুপ্ত
...
ভালোবাসা হচ্ছে এক প্রকার পাথর
দুজনে এক সাথে ছুঁয়ে দিলে
নড়ে চড়ে কথা বলে, আলো বিকীরণ করে
ছুঁয়ে না দিলে
আলো না জ্বললে
ভালোবাসা কেবলই পাথর
দেশপ্রেম কেবলই বরফ
মিছিলের উত্তাপে গলে
...
ভালোবাসা হচ্ছে এক প্রকার পাথর
দুজনে এক সাথে ছুঁয়ে দিলে
নড়ে চড়ে কথা বলে, আলো বিকীরণ করে
ছুঁয়ে না দিলে
আলো না জ্বললে
ভালোবাসা কেবলই পাথর
দেশপ্রেম কেবলই বরফ
মিছিলের উত্তাপে গলে
...
এই বাংলার মাটি / সমুদ্র গুপ্ত
...
আদর্শ বর্গ আয়তনে
সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র পরিমাপের
একখন্ড মাটি নিয়ে হাতে তুলতেই সন্দেহ হলো
লাল নাকি ! মাটির মতো লোহাও লবন !
নানান চেহারা ছবি নানান ভঙ্গি
একটুকরো মাটির বর্গে
একেক আলোর নিয়মে একেক ঘটনা ফোটায়
আদর্শ বর্গ আয়তনে
সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র পরিমাপের
একখন্ড মাটি নিয়ে হাতে তুলতেই সন্দেহ হলো
লাল নাকি ! মাটির মতো লোহাও লবন !
নানান চেহারা ছবি নানান ভঙ্গি
একটুকরো মাটির বর্গে
একেক আলোর নিয়মে একেক ঘটনা ফোটায়
বিভ্রম / সমুদ্র গুপ্ত
...
ছেলেবেলায় একবার এক
সম্পন্ন আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে গিয়ে
কারুকার্যময় আলমারির ভিতরে রাখা
সুন্দর পুতুল দেখে হাত বাড়িয়ে ধরতে গিয়ে
আলমারির কাঁচ ভেঙে ফেলেছিলাম
পুতুলের কাছ থেকে ফিরে এসেছিলো
রক্তাক্ত ক্ষুব্ধ আঙুল
যৌবনে-
চমৎকার তিল দেখে
হাত দিয়ে ছুঁতে যেতেই
তোমার লাল গাল থেকে
উড়ে গেলো মাছি
ছেলেবেলায় একবার এক
সম্পন্ন আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে গিয়ে
কারুকার্যময় আলমারির ভিতরে রাখা
সুন্দর পুতুল দেখে হাত বাড়িয়ে ধরতে গিয়ে
আলমারির কাঁচ ভেঙে ফেলেছিলাম
পুতুলের কাছ থেকে ফিরে এসেছিলো
রক্তাক্ত ক্ষুব্ধ আঙুল
যৌবনে-
চমৎকার তিল দেখে
হাত দিয়ে ছুঁতে যেতেই
তোমার লাল গাল থেকে
উড়ে গেলো মাছি
শুধু নদী ও মানুষেরা / সমুদ্র গুপ্ত
...
অদ্ভুত চরিত্র নদীর
এই কিছুকাল আগে যেখানে যেভাবে ছিল
আজ আর সেখানে নেই
আগামীকাল এখানে থাকবে না
অদ্ভুত চরিত্র মানুষের
এই কিছুকাল আগে যেখানে যেভাবে ছিল
আজ আর সেখানে নেই
আগামীকাল এখানে থাকবে না
অদ্ভুত চরিত্র নদীর
এই কিছুকাল আগে যেখানে যেভাবে ছিল
আজ আর সেখানে নেই
আগামীকাল এখানে থাকবে না
অদ্ভুত চরিত্র মানুষের
এই কিছুকাল আগে যেখানে যেভাবে ছিল
আজ আর সেখানে নেই
আগামীকাল এখানে থাকবে না
Tuesday, November 10, 2009
প্রতিহিংসা / সমুদ্র গুপ্ত
...
তোমার দুধের বাটিতে আমি
বেড়ালের সাদা লোম মিশিয়ে দেবো
চোখে ফুঁক দেবো ঢুকিয়ে দেবো ভুরু
পায়ের তালুতে গুল লাগিয়ে
পিঁপড়া লেলিয়ে দেবো
শুকনো চুলের মধ্যে
পাকা খাগড়ার গোটা ছড়িয়ে
ডলে দেবো আচ্ছা মতোন
তোমার দুধের বাটিতে আমি
বেড়ালের সাদা লোম মিশিয়ে দেবো
চোখে ফুঁক দেবো ঢুকিয়ে দেবো ভুরু
পায়ের তালুতে গুল লাগিয়ে
পিঁপড়া লেলিয়ে দেবো
শুকনো চুলের মধ্যে
পাকা খাগড়ার গোটা ছড়িয়ে
ডলে দেবো আচ্ছা মতোন
আমার স্বপ্নের সেই সোনালী বৃদ্ধ / সমুদ্র গুপ্ত
...
আমার স্বপ্নের সেই সোনালী বৃদ্ধকে আমি
অভিবাদন জানাবো
যিনি আমাকে তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে
দিন দিন শিক্ষিত করে তোলেন, যিনি
তাঁর কোঁচকানো চামড়ার ভাঁজ
একটি একটি করে খোলেন, আর
আমাকে দেখান
মানুষের কব্জীর যাবতীয় কাজ ও কারুকাজ
তিনি দেখান আর বলেন কোমল স্বরে
শ্রেনীযুদ্ধের ইতিহাসই মানুষের ইতিহাস
আমার চোখের সামনে একেকটি প্রাচীন গুহামুখ
খুলে যায় নিঃশব্দে
বৃদ্ধের দুই চোখ জ্বলে ওঠে
মোমবাতির শিখার মত সাবলীল নরোম আলোয়
আমি শতাব্দীর পর শতাব্দী
লক্ষ বছর ধরে হেঁটে যাই পা গুণে গুণে
চোখে খোলা তলোয়ারের ঝিলিক
আঙুল জ্যামিতিক কাঁটার মত নির্ভুল, আর
নিঃশ্বাস পিঁপড়ের চেয়েও বে স্পর্শপ্রবণ
প্রত্যেক যাত্রার শেষে সেই সৈম্যবৃদ্ধ বলেন
মানুষের ইতিহাস ক্রমশ এগোয় সম্মুখে
সমৃদ্ধতর এবং বেঁচে থাকার দিকে
আমি স্বপ্ন থেকে জেগে উঠি, মুহূর্তেই শিখে ফেলি
মানুষের চেতনা যতোই স্বপ্নাবৃত থাক
একদিন এই স্বপ্ন ভাঙবেই
স্বদেশের মানুষেরা ফিরে আসবে মাতৃভূমির স্বাধীনতার দিকে
এবং
রৌদ্রের বিপরীত ঝিলিকে ঝিলিকে উঠবে জীবনের চোখ
আমি
স্বাধীনতার তুমুল লড়াই শেষে
করমর্দন করবো আমার স্বপ্নের সেই সোনালী বৃদ্ধকে
আমি তাঁকে জানাবো অভিবাদন
যাঁর নির্দেশে
রাত্রি শেষের মোরগের মতো ডেকে ওঠে আমার জীবন
...
আমার স্বপ্নের সেই সোনালী বৃদ্ধকে আমি
অভিবাদন জানাবো
যিনি আমাকে তাঁর দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে
দিন দিন শিক্ষিত করে তোলেন, যিনি
তাঁর কোঁচকানো চামড়ার ভাঁজ
একটি একটি করে খোলেন, আর
আমাকে দেখান
মানুষের কব্জীর যাবতীয় কাজ ও কারুকাজ
তিনি দেখান আর বলেন কোমল স্বরে
শ্রেনীযুদ্ধের ইতিহাসই মানুষের ইতিহাস
আমার চোখের সামনে একেকটি প্রাচীন গুহামুখ
খুলে যায় নিঃশব্দে
বৃদ্ধের দুই চোখ জ্বলে ওঠে
মোমবাতির শিখার মত সাবলীল নরোম আলোয়
আমি শতাব্দীর পর শতাব্দী
লক্ষ বছর ধরে হেঁটে যাই পা গুণে গুণে
চোখে খোলা তলোয়ারের ঝিলিক
আঙুল জ্যামিতিক কাঁটার মত নির্ভুল, আর
নিঃশ্বাস পিঁপড়ের চেয়েও বে স্পর্শপ্রবণ
প্রত্যেক যাত্রার শেষে সেই সৈম্যবৃদ্ধ বলেন
মানুষের ইতিহাস ক্রমশ এগোয় সম্মুখে
সমৃদ্ধতর এবং বেঁচে থাকার দিকে
আমি স্বপ্ন থেকে জেগে উঠি, মুহূর্তেই শিখে ফেলি
মানুষের চেতনা যতোই স্বপ্নাবৃত থাক
একদিন এই স্বপ্ন ভাঙবেই
স্বদেশের মানুষেরা ফিরে আসবে মাতৃভূমির স্বাধীনতার দিকে
এবং
রৌদ্রের বিপরীত ঝিলিকে ঝিলিকে উঠবে জীবনের চোখ
আমি
স্বাধীনতার তুমুল লড়াই শেষে
করমর্দন করবো আমার স্বপ্নের সেই সোনালী বৃদ্ধকে
আমি তাঁকে জানাবো অভিবাদন
যাঁর নির্দেশে
রাত্রি শেষের মোরগের মতো ডেকে ওঠে আমার জীবন
...
Subscribe to:
Posts (Atom)
