Showing posts with label শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩ - ১৯৯৫). Show all posts
Showing posts with label শক্তি চট্টোপাধ্যায় (১৯৩৩ - ১৯৯৫). Show all posts

Wednesday, November 11, 2009

মনে মনে বহুদূর চলে গেছি / শক্তি চট্টোপাধ্যায়

...

মনে মনে বহুদূর চলে গেছি – যেখান থেকে ফিরতে হলে আরো একবার জন্মাতে হয়
জন্মেই হাঁটতে হয়
হাঁটতে-হাঁটতে হাঁটতে-হাঁটতে
একসময় যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে পৌঁছুতে পারি
পথ তো একটা নয় –
তবু, সবগুলোই ঘুরে ফিরে ঘুরে ফিরে শুরু আর শেষের কাছে বাঁধা
নদীর দু – প্রান্তের মূল
একপ্রান্তে জনপদ অন্যপ্রান্ত জনশূণ্য
দুদিকেই কূল, দুদিকেই এপার-ওপার, আসা-যাওয়া, টানাপোরেন –
দুটো জন্মই লাগে
মনে মনে দুটো জন্মই লাগে
...
[প্রাপ্তিসূত্র ]

তোমায় আমি ভোগ করেছি / শক্তি চট্টোপাধ্যায়

...

শুনেছি, খুব অসুখ তোমার,
শুনেছি খুব যাবার সময় তোমার কাছের
একটু-আধটু প্রেম-নিবেদন করবে পাছে
তাই বলেছি, বয়ঃসন্ধি।

তাই বলেছি শক্ত গাছের, কাছেই ছিলে,
এতই নতুন, বলেছি তাই বয়ঃসন্ধি।
জানতে না তো ভালোবাসায় শেষ করেছি
সারা সকাল দুপুর এবং অবশ্যও
সন্ধ্যার ও-মন্দিরে তোমায় সহস্রবার
আমি বিপুল ভোগ করেছি, তোমায় বিনা...
কিন্তু, এতো কেউ জানে না,
তোমায় আমি ভোগ করেছি, তোমায় বিনা।
...

একবার তুমি / শক্তি চট্টোপাধ্যায়

...

একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো--
দেখবে, নদির ভিতরে, মাছের বুক থেকে পাথর ঝরে পড়ছে
পাথর পাথর পাথর আর নদী-সমুদ্রের জল
নীল পাথর লাল হচ্ছে, লাল পাথর নীল
একবার তুমি ভালোবাসতে চেষ্টা করো ।

বুকের ভেতর কিছু পাথর থাকা ভালো- ধ্বনি দিলে প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়
সমস্ত পায়ে-হাঁটা পথই যখন পিচ্ছিল, তখন ওই পাথরের পাল একের পর এক বিছিয়ে
যেন কবিতার নগ্ন ব্যবহার , যেন ঢেউ, যেন কুমোরটুলির সালমা-চুমকি- জরি-মাখা প্রতিমা
বহুদূর হেমন্তের পাঁশুটে নক্ষত্রের দরোজা পর্যন্ত দেখে আসতে পারি ।

বুকের ভেতরে কিছু পাথর থাকা ভাল
চিঠি-পত্রের বাক্স বলতে তো কিছু নেই - পাথরের ফাঁক - ফোকরে রেখে এলেই কাজ হাসিল-
অনেক সময়তো ঘর গড়তেও মন চায় ।

মাছের বুকের পাথর ক্রমেই আমাদের বুকে এসে জায়গা করে নিচ্ছে
আমাদের সবই দরকার । আমরা ঘরবাড়ি গড়বো - সভ্যতার একটা স্থায়ী স্তম্ভ তুলে ধরবো
রূপোলী মাছ পাথর ঝরাতে ঝরাতে চলে গেলে
একবার তুমি ভলবাসতে চেষ্টা করো ।
...

চাবি / শক্তি চট্টোপাধ্যায়

...

আমার কাছে এখনো পড়ে আছে
তোমার প্রিয় হারিয়ে যাওয়া চাবি
কেমন করে তোরঙ্গ আজ খোলো !

থুৎনি 'পরে তিল তো তোমার আছে
এখন ? ও মন, নতুন দেশে যাবি ?
চিঠি তোমায় হঠাৎ লিখতে হলো ।

চাবি তোমার পরম যত্নে কাছে
রেখেছিলাম, আজই সময় হলো--
লিখিও, উহা ফিরৎ চাহো কিনা ?

অবান্তর স্মৃতির ভিতর আছে
তোমার মুখ অশ্রু - ঝলোমলো
লিখিও, উহা ফিরৎ চাহো কিনা ?
...

যেতে পারি কিন্তু কেন যাবো / শক্তি চট্টোপাধ্যায়

...

ভাবছি ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো ।

এতো কালো মেখেছি দু-হাতে
এত কাল ধরে !
কখনো তোমার কোরে, তোমাকে ভাবিনি ।

এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ ডাকে : আয় আয় আয়
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতাকাঠ ডাকে : আয় আয় !


যেতে পারি,
যে কোনো দিকেই আমি চলে যেতে পারি
কিন্তু,কেন যাবো ?

সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো ।

যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
তোমাদেরও সঙ্গে নিয়ে যাবো
একাকী যাবো না, অসময়ে ।
...

Tuesday, November 10, 2009

অবনী বাড়ি আছো / শক্তি চট্টোপাধ্যায়

...

অবনী বাড়ি আছো
দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া
কেবল শুনি রাতের কড়ানাড়া
‘অবনী বাড়ি আছো?’
বৃষ্টি পড়ে এখানে বারোমাস
এখানে মেঘ গাভীর মতো চরে
পরাঙ্মুখ সবুজ নালিঘাস
দুয়ার চেপে ধরে–
‘অবনী বাড়ি আছো?’
আধেকলীন হৃদয়ে দূরগামী
ব্যথার মাঝে ঘুমিয় পড়ি আমি
সহসা শুনি রাতের কড়ানাড়া
‘অবনী বাড়ি আছো?’
...

চতুর্দশপদী কবিতাবলী / শক্তি চট্টোপাধ্যায়

...

ভালোবাসা পেলে সব লন্ডভন্ড করে চলে যাবো
যেদিকে দুচোখ যায়- যেতে তার খুশি লাগে খুব ।
ভালোবাসা পেলে আমি কেন পায়সান্ন খাবো
যা খায় গরিবে, তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে ।
ভালোবাসা পেলে আমি গায়ের সমস্ত মুগ্ধকারী
আবরণ খুলে ফেলে দৌড় ঝাঁপ করবো কড়া রোদে...
ভালোবাসা পেলে জানি সব হবে । না পেলে তোমায়
আমি কি বোবার মতো বসে থাকবো-
ভালোবাসা না পেলে কি আমার এমনি দিন যাবে
চোরের মতন, কিংবা হাহাকারে সোচ্চার , বিমনা--
আমি কি ভীষণ ভাবে তাকে চাই ভালোবাসা জানে ।
...